ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দেশান্তর টেলিভিশন

অপরাধ

অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান তমিজ উদ্দিনের

অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান তমিজ উদ্দিনের

ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মুখ খুললেন তমিজ উদ্দিন, সাভারবাসীর কাছে বিচার দিলেননিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন।সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি কুচক্রী মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব প্রচারণার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।তমিজ উদ্দিন জানান, দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন এবং জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানেও সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।তিনি আরও জানান, তাঁর প্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সমর্থন পেলে আসন্ন সাভার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ আগ্রহ প্রকাশের পর সাভারবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থন দেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে তমিজ উদ্দিন বলেন, যে বিষয়গুলো নিয়ে তাঁকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেসব ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন।তিনি সাভার উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে বলেন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত সত্য যাচাই করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি এসব মিথ্যা প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পরিশেষে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাভারবাসীর ওপরই বিচার ও সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের এই সভাপতি।

ঢাকায় ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুর: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষ প্রতিবেদন | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এবং ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলার ঘটনা জননিরাপত্তা, সম্পত্তির সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। Late night rampage at ECB Chattar+1মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরগত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে মিরপুর-১ এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে সেখানে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। Others+1১৯৭৬ সাল থেকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রমে ভূমিকা রাখছিল। হামলার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি বলে জানানো হয়েছে। The Business Standard+1এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লুট হওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করেছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। The Business Standard+1ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটএরপর ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রোপার্টিজ কম্পাউন্ডে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি স্টুডিওতে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একই আবাসন প্রকল্পের অফিসসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়। bdnews24.com+1ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা হামলার নিন্দা জানান এবং সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। The Business Standard+1২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করার কথা জানানো হয়। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। The Daily Star+1পুলিশের ভূমিকা ও তদন্ত নিয়ে প্রশ্নরাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে। The Daily Star+2এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু করা এবং লুট হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও টিকা উদ্ধারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। The Daily Starআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগসাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকাতেও হামলা, ভাঙচুর এবং সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। Late night rampage at ECB Chattar+1বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। অন্যদিকে, একটি কনটেন্ট স্টুডিওতে হামলা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা পক্ষপাতের অভিযোগ থাকলে তারও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।উপসংহারঢাকায় সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলো জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত আইন প্রয়োগ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক উদ্যোগের ওপরও নির্ভরশীল।

ঢাকায় ধারাবাহিক হামলা ও ভাঙচুর: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

আশুলিয়ায় একই ঘরে তিনটি লাশ রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা

আশুলিয়ায় একই ঘর থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার, রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা। মো আবীর হাসান আশুলিয়া  ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী, এক পুরুষ ও সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন ভাড়া থাকতেন বলে স্থানীয়রা জানান। শুক্রবার ওই কক্ষ থেকে হঠাৎ পচা দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা খুলে ভেতর থেকে নারী, পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।তবে নিহতদের পরিচয় এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আশুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আশুলিয়ায় একই ঘরে তিনটি লাশ  রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা