নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপিপুত্রের ৩ দিনের রিমান্ড, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত
নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। হেলমেট পরা মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মারা যান।
শাকিলের বাবা রবিউল করিম মিস্ত্রি গত ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আট থেকে দশজনকে আসামি করে মামলা করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গুরুদাসপুরে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভও করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় হত্যার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী বলা যায় না।
প্রতিবেদনের সারকথা: শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে একজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাই ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা।
মতামত