ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
দেশান্তর টেলিভিশন
নতুন দুই নাটক নিয়ে ফিরছেন জান্নাতুল হিমি

নতুন দুই নাটক নিয়ে ফিরছেন জান্নাতুল হিমি

নতুন দুই নাটক নিয়ে ফিরছেন জান্নাতুল হিমিছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী। এবার নতুন দুই নাটক নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি।নাটক দুটিতে হিমির অভিনয়, চরিত্র ও গল্পের বৈচিত্র্য দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বেশ কিছু নাটক দর্শকদের নজর কেড়েছে। ফলে নতুন দুই নাটক নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে।অভিনয় প্রসঙ্গে হিমি জানিয়েছেন, শুধু সংখ্যার জন্য কাজ করতে চান না; গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে তবেই কাজ করতে আগ্রহী তিনি। ভালো গল্প এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্র তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দুই নাটকে হিমির অভিনয় কতটা দর্শকপ্রিয়তা পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। নাটক দুটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে তাঁর নতুন কাজ কতটা সাড়া ফেলতে পেরেছে।

তটনির নতুন নাটক ফিরে আসার গল্প

তটিনীর নতুন নাটক ‘ফিরে আসার গল্প’, অপেক্ষায় দর্শকছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সায়ারা তটিনী আবারও নতুন গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’ ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ।পারিবারিক সম্পর্ক, আবেগ, ভালোবাসা ও জীবনের নানা টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে ধারাবাহিকটি। নাটকটির গল্প ও চরিত্রের বেশ কিছু বিষয় এখনো নির্মাতার পক্ষ থেকে গোপন রাখা হয়েছে। তবে প্রকাশিত ঝলক ও শুটিংয়ের দৃশ্য দেখে বোঝা যাচ্ছে, সম্পর্কের গভীরতা ও আবেগই গল্পটির অন্যতম মূল বিষয়।এতে তটিনীর পাশাপাশি অভিনয় করছেন সুমাইয়া শিমু, খায়রুল বাসার, জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, দীপা খন্দকার, ডা. এজাজ, মনিরা মিঠুসহ আরও অনেকে। ফলে তারকাবহুল এই আয়োজনে দর্শকদের প্রত্যাশাও বাড়ছে।দীর্ঘ বিরতির পর ধারাবাহিক নাটকে তটিনীর প্রত্যাবর্তনও ‘ফিরে আসার গল্প’-এর অন্যতম আকর্ষণ। নাটকটিতে ‘নূরজাহান’ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।নির্মাতা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হবে। প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ‘সিনেমাওয়ালা’র ইউটিউব চ্যানেলে দর্শকরা এটি দেখতে পারবেন। তটিনী ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের অভিনয়, পারিবারিক আবেগঘন গল্প এবং নির্মাতা রাজের আগের কাজের সাফল্য—সব মিলিয়ে ‘ফিরে আসার গল্প’ নতুন করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে পারে বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

তটনির নতুন নাটক ফিরে আসার গল্প

আশুলিয়ায় একই ঘরে তিনটি লাশ রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা

আশুলিয়ায় একই ঘর থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার, রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা। মো আবীর হাসান আশুলিয়া  ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী, এক পুরুষ ও সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন ভাড়া থাকতেন বলে স্থানীয়রা জানান। শুক্রবার ওই কক্ষ থেকে হঠাৎ পচা দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা খুলে ভেতর থেকে নারী, পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।তবে নিহতদের পরিচয় এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আশুলিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আশুলিয়ায় একই ঘরে তিনটি লাশ  রহস্যময় খুন নাকি আত্মহত্যা

পরিবার নিয়ে দেশান্তরে সাকিব আল হাসান

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা । ক্রিকেট মাঠের ব্যস্ততার বাইরে সময় পেলেই পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা যায় তাকে। সম্প্রতি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে দেশান্তরে ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোও ভক্তদের নজর কেড়েছে।পরিবারের সঙ্গে কাটানো অবসর সময়ের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন সাকিব ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসব ছবিতে কখনো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে, আবার কখনো পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে তাকে।ক্রিকেটকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ অনেক সময়ই সীমিত থাকে সাকিবের। তাই অবসর পেলেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দেন এই অলরাউন্ডার।সাকিবের ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তার ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার পরিবারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। ক্রিকেটের মাঠে নানা অর্জনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে পরিবারকে সময় দেওয়ার এমন মুহূর্তগুলোও সাকিবের ভক্তদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পরিবার নিয়ে দেশান্তরে সাকিব আল হাসান

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কালিয়াকৈরে যুবদলের বর্ণাঢ্য মিছিল

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কালিয়াকৈরে যুবদলের বর্ণাঢ্য মিছিলগাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।মিছিলে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আব্দুল মালেক ও শাহিন ভাইয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।মিছিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। নেতাকর্মীরা দলীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আয়োজকরা বলেন, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের প্রতি নেতাকর্মীদের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ভবিষ্যতেও দলীয় কর্মসূচিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তারা। মিছিলে কালিয়াকৈর উপজেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কালিয়াকৈরে যুবদলের বর্ণাঢ্য মিছিল

তাহলে কি অভিনয় ছাড়ছেন তানিয়া বৃষ্টি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, অভিনয় জগত থেকে সরে গিয়ে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি জীবনের বাকি সময় ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তানিয়া বৃষ্টির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই খবরের সত্যতা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।এর আগে দীর্ঘদিন ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করেছেন তানিয়া বৃষ্টি। বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছেন বলে জানা যায়। এরপরই তার অভিনয় ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া একজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তাই তানিয়া বৃষ্টি সত্যিই যদি অভিনয় ছেড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটিকে সমালোচনার বদলে সম্মানের চোখে দেখাই প্রত্যাশিত।এখন অপেক্ষা—অভিনয় ছাড়ার বিষয়ে তানিয়া বৃষ্টি নিজেই কি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন? নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই খবর শুধুই গুঞ্জন—সেটিই দেখার বিষয়।

তাহলে কি অভিনয় ছাড়ছেন তানিয়া বৃষ্টি

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক: আমজাদ হোসেন বুলবুল

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক: আমজাদ হোসেন বুলবুলআগামী ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির শিমুলিয়া ইউনিয়নের সম্মানিত সদস্য জনাব আমজাদ হোসেন বুলবুল।তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা। দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত থাকুক।”আমজাদ হোসেন বুলবুল আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিএনপির আদর্শ ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক: আমজাদ হোসেন বুলবুল

নেপাল থেকে ফিরে কি বললেন অপু বিশ্বাস

নেপালে ভূমিকম্প-বন্যা, নিরাপদে ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিমনেপালে আকস্মিক ভূমিকম্প ও বন্যার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে অবস্থানরত শত শত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালে অবস্থান করছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত সিনেমা ‘শিকার’-এর টিম।এদিকে ভূমিকম্প ও বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ‘শিকার’ সিনেমার টিমের সদস্যদের খোঁজ নিতে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জনরা ফোন ও মেসেজ করছেন। সবার উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি জানিয়েছেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।এক বার্তায় অপু বিশ্বাস বলেন, ভূমিকম্প ও বন্যার খবর শোনার পর থেকেই অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জন ফোন ও মেসেজ করে তাদের খোঁজ নিচ্ছেন। সবার ভালোবাসা, উদ্বেগ ও আন্তরিকতার জন্য তিনি হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।অপু বিশ্বাস আরও জানান, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা ‘শিকার’ সিনেমার পুরো টিম নিরাপদ স্থানে আছি এবং সবাই সুস্থ ও ভালো আছি।’ তার এই বার্তার পর ‘শিকার’ সিনেমার টিমের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কেটেছে। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের নিরাপত্তার জন্য স্বস্তি প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার প্রত্যাশা করছেন।

নেপাল থেকে ফিরে কি বললেন অপু বিশ্বাস

লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে আছে তাঁত কারখানা : নয়া দিগন্ত

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা) ঘন ঘন লোডশেডিং, সুতা ও রঙের অতিরিক্ত দাম এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে ভয়াবহ ধস নেমেছে। তীব্র লোকসানের মুখে জেলার প্রায় ৩৩ হাজার বিদ্যুৎচালিত তাঁত (পাওয়ারলুম) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র তাঁতি, সাধারণ শ্রমিক ও জোগালীসহ প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আয়ের পথ হারিয়ে এসব পরিবার এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম বোর্ডের পাবনা সদর ও সাঁথিয়া বেসিক সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, পাবনা একটি অন্যতম বৃহৎ তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা। ২০০৩ সালের সরকারি জরিপ অনুযায়ী, এ জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার। বিশেষ করে পাবনা সদর, সাঁথিয়া, সুজানগর, বেড়া, ঈশ্বরদী ও ফরিদপুর উপজেলায় এই শিল্পের মূল বিস্তার। এ অঞ্চলের তৈরি শাড়ি ও লুঙ্গি দেশের বিপুল চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হতো। কিন্তু বর্তমানে তাঁতপল্লিগুলোতে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যা-ও সামান্য উৎপাদিত হচ্ছে, বাজারে কাক্সিক্ষত দাম না থাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পাবনার তাঁতপ্রধান গ্রামগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় একদম ভিন্ন চিত্র। যে পাড়াগুলোতে একসময় দিনরাত খটখট শব্দে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা। লোডশেডিংয়ের কারণে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার সামনে মলিন মুখে বসে আছেন শ্রমিকরা। উৎপাদনে ধস নামায় অনেক মালিক কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত প্রতিটি বিদ্যুৎচালিত তাঁতে সুতা তৈরি, রং করা, শুকানো, নলি ভরা ও কাপড় বোনার কাজে তাঁতপ্রতি গড়ে ৩ থেকে ৪ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এ খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৭ লাখ মানুষের রুজি-রোজি জড়িত। প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শ্রমিক পরিবারের অন্তত ৬ লাখ সদস্য এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করেন। তবে কাজ হারিয়ে অনেক ক্ষুদ্র তাঁতি ও শ্রমিক বাধ্য হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাদের অনেকে তৈরী পোশাক কারখানায় যোগ দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন। পাবনার কুলুনিয়া গ্রামের তাঁত মালিক সৈয়দ আলী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল লাগে, যার পেছনে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। একই গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারি বলেন, ৫০ কাউন্টের এক বেল সুতা এক বছর আগে ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০০ টাকায়। কাঁচামালের এমন দাম বাড়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জালারপুর গ্রামের তাঁত শ্রমিক আবুল হোসেন আফসোস করে বলেন, আগে দিনে ৩ থেকে ৪টি শাড়ি বোনা যেত, আর এখন বিদ্যুৎ না থাকায় দিনে ২টি তৈরি করাই কঠিন। সাঁথিয়ার শ্রমিক রহম আলী ও আব্দুল কদ্দুস জানান, আগে সপ্তাহে যেখানে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হতো, তা এখন নেমে এসেছে ১ থেকে দেড় হাজার টাকায়। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে দিনভর অলস বসে থাকতে হয়। শাহজাদপুর হাটের পাইকারি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, আগে রংপুর, ঢাকা বা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রতি হাটে ৭-৮ ট্রাক কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন ব্যবসায়ীরা মাত্র ১-২ ট্রাক কাপড় কিনছেন। পাবনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়নের সাবেক পরিচালক কেরামত উল্লাহ এবং হ্যান্ডলুম অ্যান্ড পাওয়ারলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বলেন, তাঁতিদের একদিকে বিদ্যুতের ন্যূনতম বিল দিতে হচ্ছে, অন্য দিকে চড়া দামে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ায় মালিকরা কারখানা চালাতে পারছেন না। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও আতাইকুলা হাটে সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। এমনকি ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেতেন। তবে স্থানীয় ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, বর্তমানে কাপড় বিক্রি, রফতানি ও ব্যাংক লেনদেন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে আছে তাঁত কারখানা  : নয়া দিগন্ত

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি, আজীবন মুখপাত্র ওসমান হাদি

সদস্যদের ভোটে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সভায় সব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ভোটে আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্যসচিব হিসেবে ফাতিমা তাসনিম জুমা নির্বাচিত হন। পাশাপাশি শহীদ শরিক ওসমান হাদিকে আজীবনের জন্য সংগঠনের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রকিবুল ইসলাম (রোকসান রাকিব), সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রায়হান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ ওমর, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে নাঈম ইবনে জাহির এবং সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল্লাহ মিশবাহ দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যোগ্য ও সিনিয়র সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এস সাবিরকে এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মামুনুর রহমান আদনান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্ত আক্তার ও শাকিব সারওয়ার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত নেতৃত্ব সংগঠনটিকে একটি আদর্শিক, গণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর দোয়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন। পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি, আজীবন মুখপাত্র ওসমান হাদি

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। গত সোমবার বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চার দিন আগে ঝড়-বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এতে দুই উপজেলার কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এ ঘটনার পর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ফসলের খেতে পানি দিতে পারছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করা যাচ্ছে না। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। দৈনন্দিন কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আবদুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়। এরপর থেকে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে। প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

তিস্তাপারে আলোর মিছিল

প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

তিস্তাপারে আলোর মিছিল

মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মুহুর্মুহু বিমান হামলায় কেঁপে উঠছে টেকনাফ-উখিয়া সীমান্ত, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কঠোর পাহারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে ক্ষমতাসীন সরকারি জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) লড়াই এখন চরম আকার ধারণ করেছে। আরাকান আর্মির বিভিন্ন অবস্থানকে লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী যুদ্ধবিমান থেকে অনবরত ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রাতভর মংডু সীমান্তে যুদ্ধবিমান থেকে ছিটকে আসা একের পর এক শক্তিশালী বোমার বিকট শব্দ এবং গোলাবর্ষণের তীব্র আওয়াজে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলো। ওপারে এই সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢোকার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে নাফ নদীসহ পুরো সীমান্তজুড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ডের টহল তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং এবং নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে এক থমথমে ও থমকে যাওয়া পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। থমথমে অবস্থার কারণে সীমান্তে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে। নাফ নদীতে নিয়োজিত স্থানীয় জেলেরা অত্যন্ত সতর্কতা ও ভয়ের সঙ্গে মাছ ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমান্ত নিরাপত্তার খাতিরে পুরো এলাকাজুড়ে বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ও কঠোর টহল দিতে দেখা গেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের বর্তমান রাজধানী সিত্তে (আকিয়াব) এলাকা থেকে জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে উড়ে আসছে। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মংডু এলাকায় আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আবার ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। প্রতিটি হামলার সময় একসঙ্গে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি অতি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এসব বোমা বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি যে নাফ নদীর এপারে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি পর্যন্ত তীব্রভাবে কেঁপে উঠছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে মংডু টাউনশিপে জান্তা বাহিনীর এই তীব্র বিমান হামলা শুরু হয়। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা টানা দুই ঘণ্টার এই অভিযানে দুটি যুদ্ধবিমান থেকে অন্তত ২৭ বার বোমাবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। জান্তা বাহিনীর এই আক্রমণের মুখে আরাকান আর্মিও বসে থাকেনি, তারাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে জবাব দিয়েছে। টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা ওপারে ঘটা এই যুদ্ধের আগুনের তীব্র ঝলকানি এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ স্পষ্টভাবে দেখতে ও শুনতে পেয়েছেন। এই বিষয়ে উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গতকাল রাতের বেলা রাখাইনের ভেতরে তীব্র বিমান হামলার বিকট শব্দ শোনা গেলেও আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নতুন করে তেমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওপার থেকে কোনোভাবেই যেন নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে, সে জন্য নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো গুলি এসে পড়ার বা কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে সবրան্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এবং হোয়াইক্যং ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল চৌধুরী একই ধরণের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ওপারের সংঘাত যদি সামনের দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পায়, তবে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দলে দলে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করার মরিয়া চেষ্টা চালাতে পারে। উখিয়া এলাকার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের অন্যতম নেতা মো. জুবায়েরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর এই ভয়াবহ বিমান হামলায় অসংখ্য ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। একই সময়ে আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও আরাকান আর্মির সঙ্গে আরও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বহুমুখী এই সংঘর্ষের কারণে রাখাইনের সার্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি বড় ধরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান ও পূর্বের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ১১ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর রাখাইন রাজ্যের মংডু, বুথিডং এবং রাথেডংসহ প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় আরাকান আর্মি। বর্তমানে শুধুমাত্র রাজধানী সিত্তে এলাকাটি মিয়ানমারের সরকারি জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্ত সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মংডু অভিমুখে পরিচালিত সবকটি বিমান হামলা মূলত এই সিত্তে রাজধানী থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হচ্ছে। মিয়ানমারভিত্তিক বেশ কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গতকাল বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগেও গত ১৭ এবং ২৪ জুন মংডু ও কিয়াউকতাও এলাকায় পৃথক দুটি বিমান হামলা চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী, যেখানে বেশ কিছু সাধারণ নাগরিক হতাহত হন। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া স্পষ্ট করে বলেছেন, সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের শিথিলতা না রেখে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সুর শোনা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের কণ্ঠেও। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, আজ দিনভর সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত ছিল। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইনে বিমান বিস্ফোরণের শব্দ, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার

একটি অর্থঋণ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এড়াতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মোছা. শাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শাহিদাকে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা আক্তার নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আকতার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলায় শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের রায়ের পর থেকেই আইনি সাজা এড়াতে শাহিদা আক্তার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। নিজের আসল পরিচয় গোপন করে গত ৯ বছর ধরে তিনি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে লালপুর থানা পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় শাহিদার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার একটি দল সুদূর রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহিদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক ছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সাহায্যে বুধবার রাতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এক বছর সাজা এড়াতে ৯ বছর পলাতক, শেষ রক্ষা হলো না শাহিদার