লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে আছে তাঁত কারখানা : নয়া দিগন্ত
শফিউল আযম বেড়া (পাবনা) ঘন ঘন লোডশেডিং, সুতা ও রঙের অতিরিক্ত দাম এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে ভয়াবহ ধস নেমেছে। তীব্র লোকসানের মুখে জেলার প্রায় ৩৩ হাজার বিদ্যুৎচালিত তাঁত (পাওয়ারলুম) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র তাঁতি, সাধারণ শ্রমিক ও জোগালীসহ প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আয়ের পথ হারিয়ে এসব পরিবার এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম বোর্ডের পাবনা সদর ও সাঁথিয়া বেসিক সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, পাবনা একটি অন্যতম বৃহৎ তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা। ২০০৩ সালের সরকারি জরিপ অনুযায়ী, এ জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ হাজার। বিশেষ করে পাবনা সদর, সাঁথিয়া, সুজানগর, বেড়া, ঈশ্বরদী ও ফরিদপুর উপজেলায় এই শিল্পের মূল বিস্তার। এ অঞ্চলের তৈরি শাড়ি ও লুঙ্গি দেশের বিপুল চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হতো। কিন্তু বর্তমানে তাঁতপল্লিগুলোতে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যা-ও সামান্য উৎপাদিত হচ্ছে, বাজারে কাক্সিক্ষত দাম না থাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পাবনার তাঁতপ্রধান গ্রামগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় একদম ভিন্ন চিত্র। যে পাড়াগুলোতে একসময় দিনরাত খটখট শব্দে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন শ্মশানের নীরবতা। লোডশেডিংয়ের কারণে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার সামনে মলিন মুখে বসে আছেন শ্রমিকরা। উৎপাদনে ধস নামায় অনেক মালিক কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সাধারণত প্রতিটি বিদ্যুৎচালিত তাঁতে সুতা তৈরি, রং করা, শুকানো, নলি ভরা ও কাপড় বোনার কাজে তাঁতপ্রতি গড়ে ৩ থেকে ৪ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এ খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৭ লাখ মানুষের রুজি-রোজি জড়িত। প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শ্রমিক পরিবারের অন্তত ৬ লাখ সদস্য এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করেন। তবে কাজ হারিয়ে অনেক ক্ষুদ্র তাঁতি ও শ্রমিক বাধ্য হয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। তাদের অনেকে তৈরী পোশাক কারখানায় যোগ দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন। পাবনার কুলুনিয়া গ্রামের তাঁত মালিক সৈয়দ আলী জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। প্রতিদিন ৪-৫ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল লাগে, যার পেছনে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে গেছে। একই গ্রামের সুতা ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারি বলেন, ৫০ কাউন্টের এক বেল সুতা এক বছর আগে ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২০০ টাকায়। কাঁচামালের এমন দাম বাড়ায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জালারপুর গ্রামের তাঁত শ্রমিক আবুল হোসেন আফসোস করে বলেন, আগে দিনে ৩ থেকে ৪টি শাড়ি বোনা যেত, আর এখন বিদ্যুৎ না থাকায় দিনে ২টি তৈরি করাই কঠিন। সাঁথিয়ার শ্রমিক রহম আলী ও আব্দুল কদ্দুস জানান, আগে সপ্তাহে যেখানে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হতো, তা এখন নেমে এসেছে ১ থেকে দেড় হাজার টাকায়। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে দিনভর অলস বসে থাকতে হয়। শাহজাদপুর হাটের পাইকারি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, আগে রংপুর, ঢাকা বা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রতি হাটে ৭-৮ ট্রাক কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের কারণে কাপড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন ব্যবসায়ীরা মাত্র ১-২ ট্রাক কাপড় কিনছেন। পাবনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউনিয়নের সাবেক পরিচালক কেরামত উল্লাহ এবং হ্যান্ডলুম অ্যান্ড পাওয়ারলুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বলেন, তাঁতিদের একদিকে বিদ্যুতের ন্যূনতম বিল দিতে হচ্ছে, অন্য দিকে চড়া দামে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ায় মালিকরা কারখানা চালাতে পারছেন না। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও আতাইকুলা হাটে সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। এমনকি ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও এখান থেকে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেতেন। তবে স্থানীয় ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, বর্তমানে কাপড় বিক্রি, রফতানি ও ব্যাংক লেনদেন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও এগিয়ে যাবে দুই দেশের অর্থনীতি: ভারতের হাইকমিশনার ত্রিবেদী
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও দুই দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই স্থায়ী সমাধানের পথ এবং এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে চায় ভারত। সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকতে পারে, কিন্তু অর্থনীতি থেমে থাকবে না। অর্থনীতি যখন এগিয়ে যায়, রাজনীতিও ধীরে ধীরে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতি দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া শান্তি ও সমৃদ্ধি। দুই দেশের দায়িত্ব হলো জনগণের জন্য এ দুটো নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ও ভারত দুটোই সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে ছোট-বড় বলে কিছু নেই। নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষা করেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে হাইকমিশনার বলেন, সম্প্রতি ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই)-এর একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। দুই দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো রাস্তাঘাট আর বিদ্যুৎ চায়। এসব নিশ্চিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিজনেস টু বিজনেস সম্পর্ক বাড়াতে হবে। এজন্য দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ রাখা দরকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই। কিন্তু তার পাশাপাশি মানুষের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। তাদের সক্ষমতা, জ্ঞান ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে কাজ করতে হবে। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমেই দুই দেশের ভোক্তারা প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য ও সেবা পেতে পারেন। যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। ভারত জিপার, মেশিনারি ও পোশাকের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করতে পারে। দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করলে ইন্দো-বাংলা বা বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগের পণ্য তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। সেখানে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তিনি গর্ববোধ করেন। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত। রাজনৈতিক সম্পর্ক নিজস্ব গতিতে চলবে, আর ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের প্রয়োজন মেটাবে বলে মনে করেন হাইকমিশনার। দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। বাংলাদেশ একটি প্রাণবন্ত ও স্বাধীন দেশ, ভারতও স্বাধীন ও সার্বভৌম। কোনো দেশই বড় বা ছোট নয়। এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দুই দেশের জনগণের জন্য কাজ করা।
ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কমিটি, আজীবন মুখপাত্র ওসমান হাদি
সদস্যদের ভোটে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি আংশিক কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সভায় সব সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত ভোটে আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্যসচিব হিসেবে ফাতিমা তাসনিম জুমা নির্বাচিত হন। পাশাপাশি শহীদ শরিক ওসমান হাদিকে আজীবনের জন্য সংগঠনের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রকিবুল ইসলাম (রোকসান রাকিব), সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শোয়াইব বিন আহসান সিয়াম, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে রায়হান আহমেদ, অর্থ সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ ওমর, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে নাঈম ইবনে জাহির এবং সহ-মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে হাবিবুল্লাহ মিশবাহ দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং যোগ্য ও সিনিয়র সদস্যদের মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি সার্চ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জি এস সাবিরকে এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মামুনুর রহমান আদনান। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ, হিশাম ইব্রাহিম, শান্ত আক্তার ও শাকিব সারওয়ার। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবগঠিত নেতৃত্ব সংগঠনটিকে একটি আদর্শিক, গণমুখী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর দোয়া, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক পরামর্শ কামনা করেছেন। পাশাপাশি সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ঘোষিত আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ: শরিকদের প্রত্যাশা মেটানোচ্যালেঞ্জ হবে বিএনপির
আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পাশে থাকা মিত্র দলগুলোর ক্ষোভ ও দূরত্ব ঘোচাতে নেতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলগুলোর নেতারা তাঁদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রধানের কাছে। জানিয়েছেন সরকারের অংশীদার হওয়ার দাবি। প্রধানমন্ত্রী সেগুলো ধৈর্যসহকারে শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু মিত্রদের এই বাড়তি প্রত্যাশা সামলানো এবং জোটের মূল শক্তিগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গত সোমবার রাতে হয়েছে ওই নৈশভোজ এবং আলোচনা। এই আয়োজনে ৪১টি শরিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নৈশভোজে অংশ নেওয়া একাধিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা আন্দোলন-সংগ্রামের পর ক্ষমতার সমীকরণে গিয়ে শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। যমুনার ওই আয়োজনে নেতারা খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবহেলার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। শরিকদের অভিযোগ, দুর্দিনের সঙ্গীদের সরিয়ে রেখে বিএনপির মধ্যে একাকী পথচলার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল, যা রাজনীতিতে ভুল বার্তা দিচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রাপ্য মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়। এ লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি দুই মাস পর শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নৈশভোজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলাম—আপনাদের এই ডাক কি ফেয়ারওয়েল ডিনার, নাকি নতুন কোনো যাত্রার সূচনা? জবাবে উনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি কোনো বিদায়ী আয়োজন নয়, বরং আমাদের ওয়েলকামিং ডিনার। এখান থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু।’ সাইফুল হক আরও বলেন, ‘দুর্দিনে যারা পাশে ছিল, তাদের সঙ্গে নিয়ে চলার শৈলীটি বিএনপি নেতৃত্বের রপ্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে অধিকাংশ দলই আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে করি।’ একই সুর পাওয়া গেছে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জানান, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে এই আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিনের রাজপথের বন্ধুদের মধ্যে যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই অবসান ঘটেছে এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে। তবে এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র উঠে এসেছে শরিক নেতাদের অনেকের কথায়। কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা শরিকদের জমে থাকা ক্ষোভ-হতাশা কিছুটা প্রশমিত হলেও দুর্দিনের সঙ্গীদের সঠিক মূল্যায়ন, চাটুকারিতা এড়িয়ে চলা এবং শরিকদের প্রত্যাশা সামলে ঐক্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বিএনপির নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে সামনের দিনে। কেননা, নৈশভোজে অংশ নেওয়া কোনো কোনো শরিক দলের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি। রাজপথে যাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান বা সাংগঠনিক সামর্থ্য নেই, তারাও অবাস্তব পদ-পদবির আবদার করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। তৎকালীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে ওই দলের হয়ে তিনিও আমন্ত্রণ পান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে। তাঁর মতো আরও অনেকে আমন্ত্রণ পান। সৈয়দ এহসানুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শরিকদের সঙ্গে দূরত্বের যে আভাস ছিল, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায় সবাই আশ্বস্ত হয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পথচলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শরিকদের মূল্যায়নের বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।’
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম